Image description

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত অবসানে ছয়টি প্রধান শর্ত দিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। রোববার (২২ মার্চ) ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানি কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, তেহরান আগে থেকেই একটি বহুমুখী প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। বর্তমানে ‘উচ্চমাত্রার কৌশলগত ধৈর্য’ নিয়ে এই পরিকল্পনা কার্যকর করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা এবং রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করার পর এখন ইসরায়েলের আকাশসীমায় ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করেছে ইরান। তিনি জানান, আগ্রাসনকারীদের ‘ঐতিহাসিক শিক্ষা’ দিতে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির দাঁতভাঙা জবাব দিতেই এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

তেহরানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে যে শর্তগুলো দেওয়া হয়েছে তা হলো-

১. ভবিষ্যতে যেন পুনরায় কোনো যুদ্ধ না বাধে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।
২. মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং অপসারণ করতে হবে।
৩. যুদ্ধের ফলে ইরানের যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
৪. পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সব ধরনের যুদ্ধ ও সামরিক তৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
৫. কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ পরিচালনার জন্য একটি নতুন আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে।
৬. ইরানবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত নির্দিষ্ট কিছু গণমাধ্যম ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে এবং তাদের ইরানের হাতে প্রত্যর্পণ করতে হবে।

ইরান সরকার মনে করছে, এই শর্তগুলো দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য একটি নতুন আইনি কাঠামোর অংশ। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের মতো শর্তগুলো ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের জন্য মেনে নেওয়া প্রায় অসম্ভব।

তেহরানের এই অনড় অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ছয় দফা শর্ত মূলত যুদ্ধের ময়দানে ইরানের শক্তিশালী অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ।

মানবকণ্ঠ/ডিআর