Image description

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বড় ধরনের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়েছেন বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী। দেশের সবচেয়ে বড় এই শ্রমবাজারে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে জাতীয় রেমিট্যান্স প্রবাহে। বিশ্লেষকরা বলছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের ডাটাবেইজ তৈরি ও দ্রুত বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজা জরুরি।

কাগজে-কলমে বিশ্বের ১৬৮টি দেশে বাংলাদেশি কর্মীরা গেলেও বাস্তবে এই খাত অনেকটাই মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। মোট অভিবাসনের প্রায় ৯০ শতাংশই সীমাবদ্ধ মাত্র পাঁচটি দেশে, যার প্রধান গন্তব্য সৌদি আরব। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অস্থিরতা ও পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে সেখানে কর্মরত বাংলাদেশিদের জীবন ও জীবিকা—দুটোই এখন হুমকির মুখে। অনেক কর্মী ইতোমধ্যে দেশে ফিরে আটকা পড়েছেন, আবার নতুন করে কর্মী যাওয়ার প্রক্রিয়াও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

বায়রার সাবেক মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান মনে করেন, শ্রমবাজার এককেন্দ্রিক হয়ে পড়ায় এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের শ্রমবাজারকে বৈচিত্র্যময় করতে হবে যাতে একটি অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কমে। পাশাপাশি যারা ফিরে এসেছেন, তাদের তালিকা তৈরি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে।”

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ এবং মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে রেমিট্যান্সে বড় ধস নামতে পারে। তবে যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্গঠন কাজের জন্য এখন থেকেই দক্ষ জনশক্তি তৈরির প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। অন্যথায় অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

এ বিষয়ে শ্রম, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকার প্রবাসীদের পাশে আছে এবং মালয়েশিয়া, জাপানসহ অন্যান্য বিকল্প শ্রমবাজারগুলো সচল করতে কাজ করছে। এছাড়া কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রবাসীদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও দপ্তরগুলো।

মানবকণ্ঠ/ডিআর