আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কাঠামোতে অর্থায়নকারী যেকোনো সংস্থাকে এখন থেকে ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
গত রোববার (২২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই কড়া বার্তা দেন। তিনি লেখেন, ‘কেবল সামরিক ঘাঁটিই নয়, যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেটে অর্থায়ন করে, সেগুলোও আমাদের কাছে বৈধ লক্ষ্যবস্তু।’
মার্কিন ট্রেজারি বন্ডকে ‘ইরানিদের রক্তে ভেজা হাতিয়ার’ আখ্যা দিয়ে গালিবাফ আরও বলেন, এসব বন্ড ক্রয় বা ধারণ করা সরাসরি ইরানের ভূখণ্ড ও জনগণের ওপর হামলাকে সমর্থন করার শামিল। বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘এগুলো কেনার অর্থ হলো—আপনার নিজস্ব সদরদপ্তর ও সম্পদের ওপর হামলা আপনি নিজেই ডেকে আনছেন।’
ইরানের উন্নত নজরদারি সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ইরান প্রতিটি বিনিয়োগ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এটিই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চূড়ান্ত সতর্কবার্তা। ইরান মনে করে, মার্কিন ঋণপত্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে যারা দেশটিকে যুদ্ধ পরিচালনায় সহায়তা করছে, তারা প্রকৃতপক্ষে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে সরাসরি সম্পৃক্ত।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কোনো উসকানি ছাড়াই ইরান অভিমুখে আগ্রাসন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সেই হামলায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৬৮ শিক্ষার্থীসহ অন্তত দেড় হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতি ও বিনিয়োগ ব্যবস্থায় এই ঘোষণা বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: প্রেস টিভি
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments