নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন
ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে বারবার ফোন সৌদি যুবরাজের
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কঠোর অবস্থানে রাখতে সরাসরি তৎপরতা শুরু করেছেন সৌদি আরবের প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)। একাধিক ফোনালাপে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন সৌদি যুবরাজ। এসব আলোচনায় তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন যে, ইরানকে স্থায়ীভাবে দুর্বল করা বা বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
সৌদি নেতৃত্ব মনে করছে, বর্তমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা নতুনভাবে গড়ার একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। যুবরাজ বিন সালমানের মতে, ইরান কেবল একটি আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং একটি ‘স্থায়ী হুমকি’। এই হুমকি নির্মূল করতে হলে কেবল সামরিক চাপ নয়, তেহরানের শাসনব্যবস্থাতেও মৌলিক পরিবর্তন আনা জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, এ বিষয়ে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একটি দুর্বল ইরানকে মেনে নিতে পারেন, যদি তারা অভ্যন্তরীণ সংকটে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু সৌদি আরবের আশঙ্কা, অস্থিতিশীল বা কোণঠাসা ইরান বরং প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য আরও বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোতে ইরানের বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও একটি দীর্ঘ ও অনিশ্চিত ছায়া-যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
প্রকাশ্যে ট্রাম্পের অবস্থানেও কিছুটা ধোঁয়াশা দেখা যাচ্ছে। একদিকে তিনি যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কথা বলছেন, অন্যদিকে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে তার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো আলোচনাই হয়নি।
সব মিলিয়ে সৌদি আরবের এই প্রচ্ছন্ন চাপ এবং তেহরানের অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে ক্রমেই এক জটিল ও ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments