Image description

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই বিশ্ব বাণিজ্যপথ নিরাপদ রাখার একক দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের নয়; বরং যেসব দেশ এই পথ দিয়ে তেল আমদানি করে, তাদেরই এখন নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসা উচিত।

সম্প্রতি ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্র আর আগের মতো বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ লাইনের ‘ফ্রি গার্ড’ হিসেবে কাজ করবে না। তিনি ইঙ্গিত দেন, চীন, জাপান ও ভারতের মতো বড় তেল-নির্ভর অর্থনীতিগুলোকে এখন থেকে এই জলপথের সুরক্ষায় সরাসরি ভূমিকা রাখতে হবে। ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এসব দেশকে সহযোগিতা করতে পারে, কিন্তু এককভাবে সব দায়ভার গ্রহণ করবে না।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ২০১৯ সালেও ট্রাম্প এই বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে এনেছিলেন। তখন তিনি এক টুইট বার্তায় বলেছিলেন, চীনের ৯১ শতাংশ এবং জাপানের ৬২ শতাংশ জ্বালানি এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এমতাবস্থায় অন্য দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার খরচ কেন যুক্তরাষ্ট্র বহন করবে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই অবস্থান মূলত একটি সুদূরপ্রসারী ভূরাজনৈতিক কৌশল। এর মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন মিত্রদের ওপর আর্থিক ও সামরিক দায়ভার ভাগ করে দিতে চাইছেন, অন্যদিকে ইরানকেও কূটনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. সামান্থা গ্রস মনে করেন, ট্রাম্প মূলত দায়ভার ভাগাভাগির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ কমাতে চান। অন্যদিকে লন্ডনভিত্তিক ছাতাম হাউসের বিশ্লেষক ড. সানাম ওয়াকিল বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক আধিপত্যের চিরাচরিত ভূমিকা থেকে সরে আসার একটি স্পষ্ট বার্তা।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে বলে অনেক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ মনে করছেন। ফলে ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান মিত্র দেশগুলোর জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, যেখানে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদেরকেই আরও সক্রিয় হতে হবে।

মানবকণ্ঠ/আরআই