Image description

ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ এক ক্রু বা পাইলটকে ঘিরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের নিখোঁজ সদস্যকে উদ্ধারে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে, অন্যদিকে জীবিত অবস্থায় ওই পাইলটকে ধরিয়ে দিলে বিশাল অঙ্কের পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে ইরান সরকার।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ‘আইআরআইবি’-এর এক উপস্থাপক দর্শকদের উদ্দেশে বলেছেন, "শত্রুপক্ষের কোনো পাইলটকে জীবিত আটক করে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দিলে তাকে মূল্যবান পুরস্কার দেওয়া হবে।" এছাড়া দেশটির বার্তা সংস্থা ‘ইসনা’-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কোহগিলুয়ে ও বয়ার-আহমদ প্রদেশের গভর্নর ঘোষণা দিয়েছেন, "অপরাধী মার্কিন পাইলটকে হস্তান্তর করতে পারলে ১০ বিলিয়ন তুমান (প্রায় ৭৬ হাজার মার্কিন ডলার) পুরস্কার দেওয়া হবে।"

এদিকে বসে নেই যুক্তরাষ্ট্রও। নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারে জোরদার অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ভূপাতিত ওই যুদ্ধবিমানের দুই ক্রুর মধ্যে একজনকে এরই মধ্যে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বর্তমানে মার্কিন বাহিনীর হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে দ্বিতীয় সদস্যের অবস্থান এখনো অজানা থাকায় তাকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ভূপাতিত হওয়া ওই যুদ্ধবিমানটি ছিল ‘এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল’ মডেলের। এটি আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে ভূমিতে নিখুঁতভাবে হামলা চালাতে সক্ষম। এ ধরনের বিমানে সাধারণত একজন পাইলট এবং একজন অস্ত্র পরিচালনাকারী কর্মকর্তা থাকেন।

সাবেক মার্কিন মেরিন ফাইটার পাইলট অ্যামি ম্যাকগ্রাথ জানান, এ ধরনের পরিস্থিতিতে টিকে থাকার জন্য যুদ্ধবিমান চালকদের বিশেষ ‘সারভাইভাল ট্রেনিং’ বা বেঁচে ফেরার প্রশিক্ষণ দেওয়া থাকে। বিমান থেকে ইজেক্ট বা ছিটকে বের হয়ে আসা শারীরিকভাবে অত্যন্ত কষ্টদায়ক হলেও, জীবিত থাকলে উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করতে হয়—তা তাদের জানা থাকে।

তবে তিনি এও উল্লেখ করেন যে, ইরানের মতো বৈরী ও বিশাল একটি রাজনৈতিক সংবেদনশীল এলাকায় অবতরণ করা অত্যন্ত জটিল। স্থানীয় জনগণ তাকে সহায়তা করবে নাকি বিরূপ আচরণ করবে—তা অনিশ্চিত। ফলে নিখোঁজ ওই মার্কিন ক্রু সদস্যের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই