ইরানের জ্বালানি ও পরিবহন স্থাপনায় বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়ে সামাজিকমাধ্যমে আবারও আক্রমণাত্মক পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক ফলো-আপ পোস্টে তিনি আপত্তিকর ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছেন।
সরাসরি হুমকি দিয়ে ট্রাম্প লিখেছেন, “আগামী মঙ্গলবার হবে ইরানে ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ এবং ‘ব্রিজ ডে’- সব একসঙ্গেই ঘটবে। এমন দৃশ্য আগে কেউ দেখেনি! এখনই হরমুজ প্রণালি খুলে দাও পাগলের দল, নয়তো নরকে পড়তে হবে! শুধু দেখো। আল্লাহর কাছে দোয়া করো।”
ট্রাম্পের এই পোস্ট থেকে পরিষ্কার, মার্কিন বাহিনী এখন ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো লক্ষ্যবস্তু করছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে মঙ্গলবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাবে যুক্তরাষ্ট্র।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ট্রাম্পের এই পোস্টের কড়া সমালোচনা করছেন। একটি দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকির পাশাপাশি যেভাবে গালিগালাজ করা হয়েছে, তা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, যা শেষ হওয়ার পথে। তার এই নতুন পোস্ট মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে চূড়ান্ত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ট্রাম্প এক পোস্টে ইরানকে চুক্তি করার জন্য অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য শেষবারের মতো ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন। তিনি বলেন, অন্যথায় ইরানের ওপর ‘নরক নেমে আসবে’।
পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, ‘মনে আছে, ইরানকে চুক্তি করতে অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম? সেই সময় শেষ হয়ে আসছে।’
তিনি আরও লিখেন, ‘আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি, এরপর তাদের ওপর নরক নেমে আসবে। ঈশ্বরের জয় হোক! প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।’
উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন, ১০ দিন ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় কোনো ধরণের আক্রমণ চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। সেই ১০ দিনের সময়সীমা শেষের দিকে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন ট্রাম্প।
পৃথক এক পোস্টে ট্রাম্প মার্কিন অর্থনীতিতে তার শুল্ক নীতির সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তবে পোস্টের শেষে তিনি লিখেন, ‘সবকিছুর পাশাপাশি আমরা একই সঙ্গে পরমাণু শক্তিসম্পন্ন দেশ ইরানকে বিদায় করছি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান




Comments