Image description

মধ্যপ্রাচ্যে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পর্দার আড়ালে বড় ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের একটি দল ৪৫ দিনের একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা করছেন। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো সাময়িক এই বিরতির ধারাবাহিকতায় যুদ্ধের একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর একটি প্রতিবেদনের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই শান্তি প্রক্রিয়া মূলত দুই পর্বে বিভক্ত। প্রথম পর্বে থাকবে ৪৫ দিনের একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি, যার আওতায় উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাবে। আর দ্বিতীয় পর্বে একটি চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনভেদে যুদ্ধবিরতির এই মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে।

এই আলোচনায় পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্ক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরাসরি আলোচনার পাশাপাশি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির মধ্যে নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান চলছে বলে জানা গেছে।

তবে এই আলোচনার মাঝেই উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সম্প্রতি ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। মধ্যস্থতাকারীরা মনে করছেন, এই সংকট নিরসনে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং ইরানের উচ্চ-মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যু দুটির সমাধান হওয়া জরুরি।

এদিকে, ইরান এই আলোচনায় অংশ নিলেও বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ইরানি আলোচকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারা গাজা বা লেবাননের মতো পরিস্থিতি চান না—যেখানে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন-তখন আক্রমণ করার সুযোগ পায়। তারা একটি সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য নিশ্চয়তা দাবি করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের তীব্রতা আরও ভয়ানক রূপ নেওয়ার আগে এটাই সম্ভবত সমঝোতার শেষ সুযোগ। তবে দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান গভীর মতভেদের কারণে শেষ পর্যন্ত কোনো ঐক্যমতে পৌঁছানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই