Image description

দিনাজপুরের হিলিতে তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে ৩০০ টাকার পেট্রোলের আশায় পাম্পের সামনে সড়কে রাত্রিযাপন করছেন শত শত মোটরসাইকেল চালক। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে হিলি ফিলিং স্টেশনে তেল দেওয়া শুরু হলেও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পেতে অনেককেই আগের রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

ভুক্তভোগীদের একজন হাকিমপুর উপজেলার আলীহাট গাজী আমিনিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল মান্নান। তার বাড়ি পার্শ্ববর্তী ঘোড়াঘাট উপজেলায়। প্রতিদিন প্রায় ২০ কিলোমিটার মোটরসাইকেল চালিয়ে তাকে মাদ্রাসায় আসতে হয়। গত কয়েকদিন তেল না থাকায় তিনি চরম ভোগান্তিতে পড়েন। সোমবার তেল দেওয়া হবে শুনে তিনি আগের দিন রবিবার এশার নামাজের পর হিলি ফিলিং স্টেশনে আসেন। এসে দেখেন অন্তত ৫০০ মোটরসাইকেল লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল পাহাড়ায় রাস্তার পাশেই মাদুর পেতে রাত কাটিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সোমবার বেলা ১১টায় মাত্র ৩০০ টাকার তেল পান এই শিক্ষক।

আব্দুল মান্নান জানান, শুধু তিনি নন, তার মাদ্রাসার আরও অনেক শিক্ষক তেলের জন্য পাম্পে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শিক্ষকরা পাম্পে পড়ে থাকায় মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিনে সোমবার সকালে দেখা যায়, হিলি ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে সহস্রাধিক মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। অনেকেই রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে লাইনে অবস্থান নিয়েছেন। কেউ কেউ সড়কে বিছানা পেতে ঘুমিয়েছেন, আবার কাউকে কাউকে দলবদ্ধভাবে খিচুড়ি রান্না করে খেতে দেখা গেছে।

তেল নিতে আসা আসলাম মিয়া অভিযোগ করেন, "সারারাত মশার কামড় খেয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। অথচ তেলের বরাদ্দ মাত্র ৩০০ টাকা। এতে ঠিকমতো দুদিনও চলা যায় না। এছাড়া ট্যাগ অফিসারের অদক্ষতার কারণে অনেকেই পরে এসে আগে তেল পাচ্ছেন।"

পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, তেলের সরবরাহ সীমিত হওয়ায় ভিড় সামলাতে প্রতিটি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে।

হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা জানান, সকাল থেকে সুশৃঙ্খলভাবে তেল বিক্রয় কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে। তিন হাজার লিটার তেলের বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে বিতরণ করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে আরও তেলের বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর