কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার কেদার ইউনিয়নে সুবলপাড় নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে ৭টি চরের প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পার হলেও সুবলপাড় নদীতে কোনো স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার বাসিন্দাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শামছুলের চর, বিষ্ণুপুর, সতীপুরী, বলদিয়া, একতাবাজার ও হ্যালোডাঙ্গাসহ মোট ৭টি চরের মানুষ প্রতিদিন এই নদী পার হয়ে কচাকাটা থানা ও নাগেশ্বরী শহরে যাতায়াত করেন। নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার পথচারী অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করেন, যা মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সেতু না থাকায় এই চরাঞ্চলের মানুষ আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না বলে অনেক ক্ষেত্রে তারা গ্রাম্য হাতুড়ে ডাক্তারের ওপর নির্ভরশীল থাকতে বাধ্য হন। এছাড়া কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সহজে শহরে বাজারজাত করতে না পারায় আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে নারী শিক্ষায়; উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় অধিকাংশ মেয়ে প্রাথমিক বা মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়ছে এবং বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মজনু মিয়া, হারেজ আলী ও শহিদুল ইসলাম জানান, গত ১০০ বছরেও এখানে কোনো স্থায়ী সেতু নির্মিত হয়নি। বংশপরম্পরায় তারা এই দুর্ভোগ দেখে আসছেন। তাই দ্রুত সুবলপাড় নদীতে একটি মজবুত সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
নাগেশ্বরী উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল রাজীব জানান, সুবলপাড় নদীতে সেতুর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিবেচনা করে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাবিত সেতুর তালিকা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। অন্যদিকে, উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের বিশেষ বরাদ্দ থেকে সেতুটি নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments