কুকুরকে লাথি মারার প্রতিবাদ করায় হত্যা, অবুঝ সন্তানদের নিয়ে রাজপথে বিধবা শিউলী
কুমিল্লার দেবিদ্বারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কৃষক জুলুস মিয়া (৫৫) হত্যার প্রতিবাদে এবং আসামিদের ফাঁসির দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী। সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের ওয়াহেদপুর বাজারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে নিহতের স্ত্রী শিউলী আক্তার তার ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে উপস্থিত হয়ে স্বামী হত্যার বিচার চাইলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অবুঝ সন্তানদের কান্নায় উপস্থিত কয়েকশ মানুষের চোখ ভিজে ওঠে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিউলী আক্তার বলেন, “যারা আমার অবুঝ সন্তানদের এতিম করেছে, তাদের বাবার স্নেহ থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত করেছে, আমি সেই পাষণ্ডদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।”
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জুলুস মিয়া একজন অত্যন্ত নিরীহ মানুষ ছিলেন। শুধু একটি কুকুরকে লাথি মারার প্রতিবাদ করায় তাকে যেভাবে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। বক্তারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কামাল, আনোয়ার, আলী আহম্মদ ও ফখরুলসহ সকল আসামির দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল বুধবার সন্ধ্যায় নারায়ণপুর গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে একই গ্রামের কামাল হোসেন একটি কুকুরকে লাথি মারলে জুলুস মিয়া তার প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কামাল ও তার ভাইয়েরা মিলে জুলুস মিয়াকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। মারধরের একপর্যায়ে কামালের লাথিতে জুলুস মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বজনরা জানান, সাত সন্তানের জনক জুলুস মিয়া কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন। তার মৃত্যুতে পুরো পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তা ও অভাবের মুখে পড়েছে।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনার পর পরই প্রধান আসামি কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments