মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম সামরিক উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে অবশেষে বড় ধরনের অগ্রগতির আভাস পাওয়া গেছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সোমবারই দুই দেশের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্ধুপ্রতিম দেশ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সুনির্দিষ্ট শান্তি পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। গত রাতে এই প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই পরিকল্পনায় মূলত দুই স্তরের পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে—প্রথমত, একটি তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি এবং দ্বিতীয়ত, একটি দীর্ঘমেয়াদী পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ‘আজকের মধ্যেই দুই দেশ একটি ঐতিহাসিক ঐক্যমতে পৌঁছাবে।’ প্রাথমিক এই সমঝোতাটি একটি 'ইলেকট্রনিক মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং' হিসেবে স্বাক্ষরিত হবে, যেখানে পাকিস্তানই প্রধান ও একমাত্র মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ জানিয়েছিল, একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অংশ হিসেবে ৪৫ দিনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে। মূলত এই ৪৫ দিনের সময়সীমার মধ্যেই যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি ঘটানোর জন্য চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হবে।
রয়টার্স আরও উল্লেখ করেছে, এই মহাবিপদ থেকে বিশ্বকে বাঁচাতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির পর্দার আড়ালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। তিনি গত কয়েক দিনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে দফায় দফায় সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করেছেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা কমার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে আসবে। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments