লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলাকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের উসকানিমূলক হামলার ফলে চলমান কূটনৈতিক আলোচনাগুলো অর্থহীন হয়ে পড়বে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র একদিন পরেই লেবাননে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে নারী ও শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “ইসরায়েলের এই আগ্রাসন সরাসরি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিপন্থী। এই সংকটময় মুহূর্তে ইরান লেবাননের মজলুম জনগণের পাশে থাকবে।”
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ লেবাননকে এই যুদ্ধবিরতির ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “লেবানন এবং সমগ্র প্রতিরোধ অক্ষ (রেজিস্ট্যান্স অ্যাক্সিস) ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে এই যুদ্ধবিরতির আওতাভুক্ত। চুক্তির এই লঙ্ঘন ভবিষ্যতে গুরুতর পরিণতি ডেকে আনবে।”
অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর আগ্রাসী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেছেন, “যেখানে প্রয়োজন হবে, সেখানেই হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালাবে ইসরায়েল।”
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েলের এই বেপরোয়া হামলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সদ্য শুরু হওয়া ভঙ্গুর কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে পুরোপুরি নস্যাৎ করে দিতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যকে আরও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments