ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে কেমন আছেন এবং কেন তিনি জনসমক্ষে আসছেন না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা এই পদে আসীন হলেও এখন পর্যন্ত তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
শনিবার ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধের শুরুতে তেহরানে সর্বোচ্চ নেতার বাসভবনে চালানো সেই ভয়াবহ বিমান হামলায় মোজতবা খামেনি মুখ ও পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। তার ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হামলায় তার মুখমণ্ডল অনেকটা বিকৃত হয়ে গেছে এবং তিনি এক বা উভয় পায়ে বড় ধরনের চোট পেয়েছেন। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রগুলোর ধারণা, মোজতবা সম্ভবত একটি পা হারিয়েছেন।
তবে গুরুতর আহত হলেও ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি মানসিকভাবে পুরোপুরি সজাগ রয়েছেন বলে জানা গেছে। ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে তিনি সেই আঘাত থেকে সেরে উঠছেন এবং সরাসরি জনসমক্ষে না এলেও অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা ও যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি সরাসরি সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন।
গত ৮ মার্চ তাকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকে এখন পর্যন্ত তার কোনো নতুন ছবি, ভিডিও বা অডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি ইরানের জাতিসংঘ মিশনও তার শারীরিক অবস্থা বা অবস্থান সম্পর্কে রয়টার্সের প্রশ্নের কোনো সরাসরি উত্তর দেয়নি। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সংবাদ পাঠক তাকে ‘যুদ্ধে গুরুতর আহত ব্যক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এর আগে গত ১৩ মার্চ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন যে, খামেনি আহত হয়েছেন এবং তার চেহারা সম্ভবত বিকৃত হয়ে গেছে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আঘাতের মাত্রা নিয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তার শারীরিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী এক বা দুই মাসের মধ্যে তার ছবি প্রকাশ করা হতে পারে অথবা তিনি জনসমক্ষে উপস্থিত হতে পারেন। বর্তমানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments