পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ব্যর্থ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে এ ক্ষেত্রে তিনি একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। পেজেশকিয়ান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ‘স্বৈরতান্ত্রিক বা আধিপত্যবাদী মনোভাব’ পরিহার করে, তবেই দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব।
রোববার (১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার বার্তায় বলেন, “যদি মার্কিন সরকার তাদের স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব পরিত্যাগ করে ইরানের জনগণের জাতীয় অধিকারকে সম্মান করে— তাহলে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ বের করা সম্ভব। আমি ইরানের প্রতিনিধি দলের সকল সদস্যকে, বিশেষ করে আমার প্রিয় ভাই জনাব কালিবাফকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদের দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনা কোনো প্রকার সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন সপ্তাহব্যাপী পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংলাপ চললেও তা ব্যর্থ হয়েছিল।
পরবর্তীতে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের দীর্ঘকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হন। ৩৯ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর গত ৭ এপ্রিল দুই দেশ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। সেই যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিকতায় ইসলামাবাদে পুনরায় সংলাপে বসেছিল দুই দেশ, যা শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের এই বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চরম উত্তেজনার মাঝেও ইরান কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে চায় না, যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের নীতিতে পরিবর্তন আনে।
সূত্র : বিবিসি
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments