যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অব্যাহত হুমকি এবং আলোচনার টেবিলে নতুন শর্তারোপের ফলে সৃষ্ট অচলাবস্থায় ‘যেকোনো মুহূর্তে’ আবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
রোববার (১৯ এপ্রিল) ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের ওপর তেহরানের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তাদের সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
গালিবাফ ইরানের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের কথা তুলে ধরে দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানি বাহিনী শত্রুপক্ষের ১৮০টি ড্রোন এবং একটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ইরানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ।
এদিকে, সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় রেডিও। অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জোরদার করতে ১২টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ, অন্তত ১০০ যুদ্ধবিমান এবং ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এখন থেকে টোল দিয়েও কোনো জাহাজ ‘হরমুজ প্রণালি’ পার হতে পারবে না; চলাচলের চেষ্টা করলেই তাতে হামলা চালানো হবে।
সংকট নিরসনে পাকিস্তান ও মিসর জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা এড়াতে দ্রুত সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানি সূত্রগুলো বলছে, আগামীকাল সোমবার ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের দ্বিতীয় দফার আলোচনা হতে পারে। উল্লেখ্য, আগামী ২১ এপ্রিল বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। তার আগেই স্থায়ী কোনো সমাধানে পৌঁছাতে না পারলে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments