Image description

পশ্চিমাদের কড়া নজরদারি এড়িয়ে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কের নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে ভারত ও রাশিয়া। নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশ এখন থেকে একে অপরের ভূখণ্ডে সেনা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান ও রণতরী ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ লজিস্টিক সুবিধা পাবে। একইসঙ্গে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার বাকি অংশ দ্রুত সরবরাহের ঘোষণা মস্কো-দিল্লি অংশীদারিত্বে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই চুক্তির আওতায় দুর্যোগ মোকাবিলা ও যৌথ সামরিক মহড়ার প্রয়োজনে একে অপরের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে পারবে দুই দেশ। চুক্তির শর্তানুযায়ী, সর্বোচ্চ ৩ হাজার সেনা সদস্য, ১০টি যুদ্ধবিমান এবং ৫টি রণতরী একই সঙ্গে মোতায়েন রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে। এই সমঝোতার ফলে রাশিয়ার কৌশলগত বন্দরগুলোতে ভারতীয় নৌবাহিনীর রণতরী এবং রুশ আকাশসীমায় ভারতীয় যুদ্ধবিমানের চলাচল ও রসদ সরবরাহ আগের চেয়ে অনেক সহজ হবে।

২০১৮ সালের চুক্তি অনুযায়ী ভারতকে ‘এস-৪০০ অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট মিসাইল সিস্টেম’ সরবরাহের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। ভারতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ নিশ্চিত করেছেন যে, নির্ধারিত সময়সূচী মেনেই বাকি সরঞ্জামগুলো দ্রুত নয়াদিল্লির কাছে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া সুখোই-৫৭ ফাইটার জেট এবং একে-২০৩ রাইফেল তৈরির মতো স্পর্শকাতর প্রকল্পগুলোতেও দুই দেশ অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা ও চাপের মুখেও ভারতের এই অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রতিরক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই এই অংশীদারিত্ব এশিয়ায় মস্কো ও দিল্লির প্রভাবকে আরও সুসংহত করবে। মূলত লজিস্টিক বা রসদ সরবরাহের ক্ষেত্রে একে অপরকে সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার এই আইনি কাঠামো দুই দেশের সামরিক সক্ষমতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর