থানায় দায়িত্বরত এক নারী উপপরিদর্শককে (এসআই) ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করায় নূর মোহাম্মদ মামুন নামে এক যুবককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে বগুড়ার শেরপুর থানায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মামুনকে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখার পর পরিবারের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম রোখসানা খাতুন। তিনি গত বছরের এপ্রিলে শেরপুর থানায় যোগদান করেন।
ভুক্তভোগী মামুন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তিনি থানায় যান। সেখানে ডিউটি অফিসার হিসেবে কর্মরত এসআই রোখসানাকে ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করে কথা বলতে চাইলে তিনি চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। মামুন অভিযোগ করেন, “কোনো কারণ ছাড়াই ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে কুৎসিত ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে থানায় আটকে রাখেন। পরে আমার পরিবারের লোকজন এলে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পাই।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসআই রোখসানা খাতুনের বিরুদ্ধে এর আগেও সাধারণ মানুষের সাথে অপেশাদার আচরণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কয়েক মাস আগে রেজাউল করিম ও নাঈম ইসলাম নামে দুই ব্যক্তি থানায় গিয়ে তার দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছিলেন। এমনকি স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান হোসেন প্রায় পাঁচ মাস আগে ওই কর্মকর্তার আচরণের বিষয়ে থানায় মৌখিক অভিযোগ দিয়েছিলেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য জানিয়েছেন, এসআই রোখসানার মেজাজ ও রূঢ় আচরণের কারণে সহকর্মীদের মধ্যেও অস্বস্তি কাজ করে।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, “এসআই রোখসানা খাতুনের বিরুদ্ধে আগেও কিছু মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজকের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং এরই মধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসআই রোখসানা খাতুনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments