ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের জেদ্দায় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এক বিশেষ বৈঠকে বসছেন উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা (জিসিসি)ভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা। দুই মাস আগে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জিসিসি নেতাদের এটিই প্রথম সশরীরে (ইন-পারসন) সম্মেলন।
বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, সম্মেলনে হাজার হাজার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবে একটি ‘ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়া’ তৈরির বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এই যুদ্ধে জিসিসিভুক্ত ছয়টি দেশেরই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো, বেসামরিক স্থাপনা এবং মার্কিন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উপসাগরীয় দেশগুলোতে নতুন করে সংঘাত শুরুর শঙ্কা কাটেনি। কারণ, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত বা দীর্ঘমেয়াদী সমঝোতা হয়নি।
সৌদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে কাতারের আমির, কুয়েতের যুবরাজ, বাহরাইনের রাজা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যে জেদ্দায় পৌঁছেছেন। তবে ওমান ও স্বাগতিক সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব কে করবেন, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।
এদিকে এই শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জিসিসির ভূমিকা নিয়ে নিজ জোটের মধ্যেই অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আনোয়ার গারগাশ সোমবার এক সম্মেলনে জিসিসির সমালোচনা করে বলেন, “লজিস্টিক সহায়তার ক্ষেত্রে দেশগুলো একে অপরকে সমর্থন দিলেও রাজনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে এটি ছিল জিসিসির ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান।” তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, আরব লিগের কাছ থেকে এমন অবস্থান প্রত্যাশিত হলেও জিসিসির নিষ্ক্রিয়তা তাঁকে বিস্মিত করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জেদ্দার এই বৈঠক থেকে জিসিসি দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো সামরিক বা কৌশলগত জোট গঠনের ঘোষণা দিতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments