Image description

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া যুদ্ধ শেষ করার ১৪ দফা প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন। তবে কূটনৈতিক এই আলোচনার মধ্যেই তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, ইরান যদি কোনো প্রকার ‘অসদাচরণ’ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় বিমান হামলা শুরু করতে দ্বিধা করবে না।

শনিবার ফ্লোরিডায় এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে, তাকে প্রস্তাবিত চুক্তির মূল ধারণা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। তবে তিনি স্বভাবসুলভভাবেই ইরানকে সতর্ক করে দেন।

গত ৭ এপ্রিল থেকে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলার কারণে নতুন করে সংঘাত স্থগিত রয়েছে। সাংবাদিকরা পুনরায় বিমান হামলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করলে ট্রাম্প বলেন, “তারা যদি খারাপ কিছু করে, তবে এমনটা (হামলা) ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।” 

তিনি দাবি করেন, কয়েক মাসের সংঘাত ও নৌ অবরোধে ইরান বর্তমানে ‘বিধ্বস্ত’ এবং তারা একটি সমঝোতার জন্য ‘মরিয়া’ হয়ে উঠেছে।

পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ইরানের প্রস্তাবটি মেনে নেওয়া কঠিন হতে পারে। 

তিনি উল্লেখ করেন, গত ৪৭ বছরে তেহরান মানবতা ও বিশ্বের প্রতি যা করেছে, তার জন্য তারা এখনও যথেষ্ট মূল্য পরিশোধ করেনি।

ইরানের ১৪-দফা প্রস্তাবে যা আছে;
তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া শান্তি পরিকল্পনায় তিনটি প্রধান শর্তের কথা জানা গেছে:
১. মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।
২. যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৩. জব্দকৃত সকল ইরানি সম্পদ মুক্তি দেওয়া।
এছাড়া ইরান শান্তিচুক্তির শর্তাবলী চূড়ান্ত করার জন্য ৩০ দিনের একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এই প্রক্রিয়াটি আরও দীর্ঘমেয়াদী এবং ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার পক্ষে, যা দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে মতপার্থক্যের সৃষ্টি করেছে।

ফেব্রুয়ারির শেষে শুরু হওয়া ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধটি বর্তমানে তিন সপ্তাহের একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে রয়েছে। তবে এর মধ্যেই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) শনিবার জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র পূর্ববর্তী চুক্তিসমূহ রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় তারা পুনরায় যুদ্ধে নামতে ‘পূর্ণ প্রস্তুত’।

এদিকে মার্কিন নৌ অবরোধকে ট্রাম্প ‘অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা’ হিসেবে আখ্যায়িত করায় তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘জলদস্যুতার এক মারাত্মক স্বীকারোক্তি’ বলে কঠোর সমালোচনা করেছে।