ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় বড় ধরনের চমক সৃষ্টি করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দলটি ইতিমধ্যে সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ‘ম্যাজিক ফিগার’ পার করেছে। এই অভাবনীয় সাফল্যের খবরে রাজ্যজুড়ে বিজেপি শিবিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের সোমবার (৪ মে) দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১৮৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস ১০২টি আসনে এগিয়ে থেকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
বিজেপির এই বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন দলটির কর্মী-সমর্থকরা। বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ ও জয়োল্লাস করতে দেখা গেছে তাদের। বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ফলের প্রতিক্রিয়ায় দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা একজোট হয়ে নরেন্দ্র মোদির উন্নয়নের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং বিজেপি এবার বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সরকার গড়তে চলেছে।
পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে বিজেপির এই ভালো ফলের ইঙ্গিত পাওয়ার পর ভারতের রাজধানী দিল্লিতে দলীয় সদর দপ্তরেও বিজয় উদযাপনের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।
সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেখানে উপস্থিত হয়ে বিজয়োৎসবের অংশ হিসেবে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন।
এদিকে, হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কলকাতার ভবানীপুর আসনের দিকে সবার নজর রয়েছে। এই আসনের ভোট গণনা চলছে কলকাতার শাখাওয়াত স্কুলে। গণনা কেন্দ্রকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। ভোর ৪টা থেকেই তৃণমূল ও বিজেপি উভয় দলের সমর্থকরা গণনা কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান নিলেও নিরাপত্তার স্বার্থে কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে পোস্টাল ব্যালট গণনার মাধ্যমে এই মহাযুদ্ধের ফল নির্ধারণ শুরু হয়। সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দপ্তরে বসে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।
ভোট গণনা এখনো অব্যাহত থাকলেও বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকলে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ এক দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।




Comments