ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকার জেরে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম এপ্রিলে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে উদ্ভিজ্জ তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ায় টানা তৃতীয় মাসের মতো বিশ্বে খাদ্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। শুক্রবার জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
এফএও-র প্রধান অর্থনীতিবিদ মাক্সিমো তোরেরো জানান, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়ায় জৈব জ্বালানি বা বায়োফুয়েলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বায়োফুয়েল তৈরিতে সয়াবিন ও পাম অয়েলের মতো উদ্ভিদের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় ভোজ্যতেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। তবে যুদ্ধজনিত এই অস্থিরতার মধ্যেও গত মৌসুমের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা অনেকটাই স্থিতিশীল রয়েছে এবং খাদ্যশস্যের দাম খুব সামান্যই বেড়েছে।
এফএও-র তথ্যমতে, বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম পরিমাপকারী ‘ফুড প্রাইস ইনডেক্স’ এপ্রিলে গড়ে ১৩০ দশমিক ৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে, যা গত মার্চের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। এটি ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ সূচক।
মূলত সয়াবিন, সূর্যমুখী, রেপসিড ও পাম অয়েলের দাম বাড়ায় এপ্রিলে ভোজ্যতেলের মূল্য সূচক ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, আবহাওয়াগত উদ্বেগ, সারের দাম এবং বায়োফুয়েলের চাহিদার কারণে গম ও ভুট্টার মতো শস্যের দাম মার্চ থেকে মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যান্য পণ্যের মধ্যে, ব্রাজিলে জবাইযোগ্য গবাদি পশুর সংকটে এপ্রিলে মাংসের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড গড়েছে। তবে ব্রাজিল, চীন ও থাইল্যান্ডে পর্যাপ্ত সরবরাহের পূর্বাভাসের কারণে চিনির দাম কমেছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ।
সংস্থাটি তাদের আলাদা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক শস্য উৎপাদনের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৩০৪ কোটি মেট্রিক টনে দাঁড়াতে পারে। তবে সারের চড়া মূল্যের কারণে ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে গমের চাষ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে এফএও।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments