পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ। দলের একাধিক নেতা-কর্মী প্রকাশ্যেই অভিযোগ তুলছেন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি-এর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে যুক্ত পরামর্শক সংস্থা আইপ্যাকের ভূমিকাও সমালোচনার মুখে পড়েছে।
দলের প্রবীণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রীদের একাংশের অভিযোগ, “করপোরেট স্টাইলে” দল পরিচালনার কারণে তৃণমূল সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ হারিয়েছে। অনেকের মতে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রাজনৈতিক কৌশল মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।
সাবেক পর্যটনমন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী সরাসরি অভিষেক ব্যানার্জিকে দায়ী করে বলেন, “একজনই ব্যক্তি আছেন যিনি দলটিকে তিলে তিলে শেষ করে দিয়েছেন।” তার অভিযোগ, দলকে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মতো পরিচালনা করা হয়েছে, যা বাংলার রাজনীতিতে কার্যকর নয়।
তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা অতীন ঘোষ-ও মনে করেন, প্রযুক্তি দিয়ে মানুষের মনোভাব পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন যারা মানুষের সঙ্গে সরাসরি মিশে বাস্তবতা উপলব্ধি করবেন।
অন্যদিকে, দলের একাংশ আইপ্যাকের বিরুদ্ধে “মাতব্বরি” ও টাকার বিনিময়ে টিকিট বণ্টনের অভিযোগ তুলেছেন। সাবেক বিধায়ক খগেশ্বর রায় দাবি করেন, ২০২১ সালের পর থেকেই আইপ্যাক নেতাকর্মীদের ওপর প্রভাব বিস্তার শুরু করে। তার ভাষায়, “ওরা এসি গাড়িতে ঘুরে মানুষের বাস্তবতা না বুঝেই সিদ্ধান্ত দিত।”
এদিকে দলবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগে কয়েকজন নেতা ও মুখপাত্রকে শোকজ নোটিশ দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্র বলছে, প্রকাশ্যে সমালোচনা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
নির্বাচনের ফলের পর হতাশা প্রকাশ করেছেন দলীয় অনেক তারকাপ্রার্থীও। চলচ্চিত্র পরিচালক রাজ চক্রবর্তী রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি অভিযোগ করেছেন, মন্ত্রণালয়ে তাকে কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
পরাজয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে এখন দলীয়ভাবে আলোচনা চলছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকাশ্য অসন্তোষ তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকটকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments