ছবি: বিবিসি নিউজ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানে ইরানের দেওয়া প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি তেহরানের এই উদ্যোগের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান একটি শান্তি প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে পাঠিয়েছিল। এতে তিনটি প্রধান শর্ত দেওয়া হয়েছিল: সব রণাঙ্গনে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা।
তবে ট্রাম্প এই প্রস্তাবের সমালোচনা করে লিখেছেন, “আমি এইমাত্র ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়া পড়েছি। এটা আমার পছন্দ হয়নি—একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।”
এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধের ইতি টানার আগে অত্যন্ত কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। সিবিএস-এর ‘সিক্সটি মিনিটস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ করার আগে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ অবশ্যই সরিয়ে ফেলতে হবে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো ভেঙে ফেলতে হবে।
একই সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর ইসরায়েলের নির্ভরতা কমানোর ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “আমরা বছরে ৩.৮ বিলিয়ন ডলার পাই। আমি মনে করি, আগামী ১০ বছরের মধ্যে এই সহায়তা শূন্যে নামিয়ে এনে আমাদের নিজেদের মুক্ত করার সময় এসেছে।”
ইরান বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ অবরোধ করে রেখেছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
ইরানি সামরিক মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো তেহরানের সঙ্গে সহযোগিতা না করলে ‘কঠোর পরিণতির’ সম্মুখীন হবে।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে, যা তেহরানকে আরও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ১৪ দফার একটি স্মারকলিপি দিয়েছে, যাতে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার শর্ত রয়েছে।
এরই মধ্যে ব্রিটেনের রয়্যাল নেভি মধ্যপ্রাচ্যে একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই মিশনে নেতৃত্ব দিলেও ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, কোনো ব্রিটিশ বা ফরাসি সেনা মোতায়েন করা হলে তার ‘তাৎক্ষণিক জবাব’ দেওয়া হবে।
রোববার কাতারের দোহা থেকে কিছু দূরে একটি মার্কিন মালিকানাধীন বাল্ক ক্যারিয়ার ‘অজ্ঞাত বস্তুর’ আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কুয়েত তাদের আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের কথা জানিয়েছে। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরম তুঙ্গে।
ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমরা শত্রুর সামনে কখনো মাথা নত করব না। সংলাপের অর্থ আত্মসমর্পণ বা পশ্চাদপসরণ নয়।” ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত এক পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি নিউজ




Comments