আসন্ন ঈদুল আজহায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা বৃষ্টির কারণে চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানিয়েছেন, আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী ঈদের সময় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা যানজট ও জনভোগান্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার ধাপে ধাপে পোশাক কারখানা ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত এক জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রী।
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদে বাড়ি ফেরার সময় যাত্রীচাপ সামলানো সবসময়ই বড় কাজ। এবার আমরা গার্মেন্টস ছুটির বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা শ্রমিকদের ৩ থেকে ৪ দিনে ধাপে ধাপে ছুটি দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। গতবার শেষ দিনে সব গার্মেন্টস একসাথে ছুটি হওয়ায় গাজীপুর ও এর আশপাশে অন্তত ১০ থেকে ১৫ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছিল, যা সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। এবার সেই পরিস্থিতি এড়াতে এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।’
বৃষ্টির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘বৃষ্টি শুরু হলে সড়কে গাড়ির গতি কমে যায় এবং যানজট সৃষ্টির ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়। এছাড়া বৃষ্টির মধ্যে পুলিশ সদস্যদের রাস্তায় দায়িত্ব পালন করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। গতবারের ঝড়-বৃষ্টি আমাদের বেশ শিক্ষা দিয়েছে। এবারও সেই আশঙ্কা থাকায় ঈদযাত্রা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’ বিশেষ করে পশুবাহী যানবাহনের আধিক্য এই চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে তিনি মনে করেন।
যাত্রীদের নিয়ম মানার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ছুটি পাওয়ার পর যেভাবেই হোক দ্রুত বাড়ি ফেরার একটি মানসিকতা কাজ করে অনেকের মধ্যে। বাস-ট্রাক-পিকআপ যেটাই পায়, তাতেই উঠে পড়ার চেষ্টা করেন যাত্রীরা। ফিটনেসবিহীন গাড়িতে ওঠার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভাড়া নৈরাজ্য ঠেকাতে এবার সারাদেশে ৬৯টি মোবাইল কোর্ট সক্রিয় থাকবে।’
ভাড়া নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভাড়া ইতোমধ্যে সমন্বয় করা হয়েছে। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে রাস্তার মাঝপথ থেকে যারা যাত্রী তুলবে, তাদের তদারকি করা কঠিন। তবুও আমরা সব শক্তি প্রয়োগ করছি যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হয়।’
ফেরি ও সদরঘাট নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে এবার ফেরিতে বাস ওঠার আগে সব যাত্রীকে নামতে হবে। যাত্রীরা না নামলে ফেরিতে বাস উঠতে বাধা দিতে ব্যারিকেড দেওয়া হবে। এছাড়া সদরঘাটে বোট বা স্পিডবোট থেকে সরাসরি লঞ্চে ওঠা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments