যশোরের কেশবপুর উপজেলার আলতাপোল গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় সুস্বাদু হাইব্রিড লাল জামরুলের বাম্পার ফলন হলেও চাষিদের মুখে হাসি নেই। যে গাছের ডালগুলো কয়েকদিন আগেও ফলের ভারে মাটি ছুঁয়েছিল, এখন সেই গাছতলায় জমে আছে ঝরে পড়া পচা জামরুলের স্তূপ। রহস্যজনক এই মড়কে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।
সরেজমিনে আলতাপোল গ্রামের আদর্শ কৃষাণী রুমা খাতুনের বাগানে গিয়ে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। তাঁর বাগানের বড় বড় হাইব্রিড লাল জামরুল গাছগুলো এখন ফলশূন্য হওয়ার পথে। মাটিতে লালচে-সাদা জামরুলের আস্তরণ পড়ে আছে। রুমা খাতুন জানান, এই লাল জাতের জামরুল অন্য জাতের তুলনায় আগে পাকে এবং অত্যন্ত মিষ্টি ও সুস্বাদু। ফলনও হয়েছিল দেখার মতো। পরশুদিনও ফলের ভারে ডালগুলো মাটিতে নুয়ে ছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই শুরু হয়েছে ফল ঝরা। ঝরে পড়া জামরুলগুলো ভাঙলে ভেতরে দেখা যাচ্ছে ছোট ছোট সাদা পোকা।
শুধু রুমা খাতুনই নন, কেশবপুরের অনেক জামরুল চাষিরই এখন একই দশা। বাজারজাত করার ঠিক আগ মুহূর্তে এমন মড়কে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তাঁরা। চাষিদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগ থেকে সঠিক সময়ে কার্যকর পরামর্শ না পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার মূলগ্রামের কৃষক তাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, “আমাদের গাছের জামরুল ঝরে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে। কোনোভাবেই তা রোধ করা যাচ্ছে না। যেহেতু এই ফলটি সরাসরি খাওয়া হয়, তাই আমরা কোনো বিষাক্ত কীটনাশকও ব্যবহার করতে পারছি না।”
এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন জানান, আবহাওয়াগত পরিবর্তন এবং হঠাৎ বৃষ্টির কারণে ফলে আর্দ্রতা বেড়ে গিয়ে ছত্রাক বা ‘ফ্রুট ফ্লাই’ (Fruit Fly) পোকার আক্রমণ হতে পারে। স্ত্রী মাছি ফল পরিপক্ব হওয়ার সময় খোসার নিচে ডিম পাড়ে, যা থেকে লার্ভা তৈরি হয়ে ফলটি ভেতর থেকে পচিয়ে দেয়। ফলে ফল দ্রুত ঝরে পড়ে। এটি কোনো বিশেষ রোগ নাকি পোকার আক্রমণ, তা দ্রুত শনাক্ত করে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অসময়ে বৃষ্টি ও তাপমাত্রার তারতম্য দেশের ফল চাষে বড় ধরনের সংকট তৈরি করছে। এই বিপর্যয় রোধে কেবল পরামর্শ নয়, বরং আক্রান্ত বাগানগুলোতে ‘ফেরোমন ফাঁদ’ ব্যবহার বা অনুমোদিত বালাইনাশক প্রয়োগের বিষয়ে চাষিদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। অন্যথায়, কেশবপুরের এই সম্ভাবনাময় ফল চাষ ভবিষ্যতে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments