Image description

আফ্রিকার কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি) এবং উগান্ডায় ইবোলার একটি বিরল প্রজাতি 'বান্ডিবুগিও ভাইরাস ডিজিজ' (বিভিডি) ছড়িয়ে পড়েছে। অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, এই প্রাদুর্ভাবটি প্রতিবেশী দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি ইবোলার বিরল প্রকার ‘বান্ডিবুগিও ভাইরাস’ দ্বারা সৃষ্ট। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই নির্দিষ্ট প্রজাতির ভাইরাসের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। কঙ্গো ও উগান্ডায় এর আগে বহুবার ইবোলা দেখা দিলেও, বিরল এই বিভিডি প্রজাতি শনাক্ত হওয়ার এটি মাত্র তৃতীয় ঘটনা।

আফ্রিকা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (এসিডিসিপি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩৩৬ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ৮৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আক্রান্তদের বেশিরভাগই কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশের বাসিন্দা। তবে প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও দুজন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যারা সম্প্রতি কঙ্গো থেকে ভ্রমণ করে এসেছিলেন। এর মধ্যে একজন রাজধানী কাম্পালার একটি হাসপাতালে মারা গেছেন।

সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস রোববার এক বিবৃতিতে জানান, এই পরিস্থিতি এখনো বৈশ্বিক মহামারি জরুরি অবস্থার মানদণ্ড পূরণ করেনি, তবে আঞ্চলিকভাবে এটি ছড়িয়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোকে তাদের জাতীয় দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা সক্রিয় করার পরামর্শ দিয়েছেন।

ডব্লিউএইচও শনাক্ত রোগীদের দ্রুত আলাদা করার নির্দেশ দিয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের অন্তত ২১ দিন পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। এই সময়ে তারা দেশের অভ্যন্তরে সীমিত যাতায়াত করতে পারলেও কোনো আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করতে পারবেন না। এছাড়া দেশগুলোকে সীমান্ত বন্ধ না করার আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। 

সংস্থাটির মতে, সীমান্ত বন্ধ করলে মানুষ নজরদারি এড়িয়ে অবৈধ পথে যাতায়াত করতে পারে, যা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেবে।

এই ভাইরাসটি আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক তরল (রক্ত, লালা ইত্যাদি), দূষিত বস্তু বা মৃত ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। 
প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে: তীব্র জ্বর ও শরীর ব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া।  

দেশটির ইতুরি প্রদেশ এবং কাম্পালায় স্ক্রিনিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে কঙ্গো ও উগান্ডার স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চিকিৎসা দলগুলো।