লন্ডনে কট্টর ডানপন্থী ও ফিলিস্তিনপন্থীদের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ৩১
লন্ডনের রাজপথে শনিবার (১৬ মে) কট্টর ডানপন্থী এবং ফিলিস্তিনপন্থী দুই বিশাল গোষ্ঠীর পাল্টাপাল্টি মিছিলে উত্তজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ তাদের বছরের সবচেয়ে বড় ‘জনশৃঙ্খলা অভিযান’ পরিচালনা করে। দিনভর উত্তেজনা শেষে পুলিশ ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
কট্টর ডানপন্থী নেতা টমি রবিনসনের আহবানে হাজার হাজার মানুষ লন্ডনের কেন্দ্রস্থল হলবর্ন থেকে পার্লামেন্ট স্কোয়ার পর্যন্ত পদযাত্রা করেন। ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’ নামের এই মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন বন্ধ, সীমান্ত রক্ষা এবং ‘খ্রিস্টীয় মূল্যবোধ’ রক্ষার দাবি জানান। অংশগ্রহণকারীদের অনেকের গায়ে ‘মেগা’ (Make England Great Again) লেখা পোশাক দেখা যায় এবং তারা ‘ক্রাইস্ট ইজ কিং’ স্লোগান দেন। রবিনসন একে একটি ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
একই সময়ে ‘নাকবা দিবস’ ও ‘স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম’ গোষ্ঠীর ব্যানারে পাল্টা একটি বিশাল মিছিল বের হয়। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের সময় ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতির দিনটিকে স্মরণ করে তারা গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং ব্রিটেনে ক্রমবর্ধমান বর্ণবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। তবে পুলিশি কড়াকড়ির কারণে দুই পক্ষকে মুখোমুখি হতে দেওয়া হয়নি।
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রায় ৪,০০০ কর্মকর্তা মোতায়েন করেছে। মিছিলের ওপর নজর রাখতে ড্রোন, ঘোড়া, কুকুর এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, উভয় মিছিলে প্রায় ৮০,০০০ মানুষের সমাগম হতে পারে বলে তারা পূর্বাভাস দিয়েছিল। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং শান্তি ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই বিক্ষোভের আগে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের আইনের পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি হতে হবে। তিনি রবিনসনের বিরুদ্ধে ‘ঘৃণা ও বিভেদ ছড়ানোর’ অভিযোগ করেন। এছাড়া উস্কানিমূলক বক্তব্যের আশঙ্কায় ১১ জন বিদেশি উগ্র ডানপন্থী আন্দোলনকারীকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে বাধা দিয়েছে সরকার।
যুক্তরাজ্যে সম্প্রতি সন্ত্রাসবাদের হুমকির মাত্রা ‘গুরুতর’ (Severe) স্তরে উন্নীত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ফিলিস্তিনপন্থী মিছিলগুলোর সময় ইহুদিবিদ্বেষী স্লোগানের কারণে অনেক ইহুদি লন্ডনের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে ভয় পাচ্ছেন। অন্যদিকে, কট্টর ডানপন্থীদের উত্থানে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে রবিনসনের একই ধরনের সমাবেশে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ সমবেত হয়েছিল, যেখানে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে বহু কর্মকর্তা আহত হয়েছিলেন। এবারের সমাবেশে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হলেও লন্ডনের রাজনৈতিক ও সামাজিক মেরুকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সূত্র: টাইমস অব ইজরাইল




Comments