Image description

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও ষড়যন্ত্রের বিষয়টি আবারও জোরালো হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি গোপন কূটনৈতিক নথি বা ‘সাইফার’ থেকে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। সোমবার (১৮ মে) মার্কিন অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ‘ড্রপ সাইট’ এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ফাঁস হওয়া ওই নথিতে ২০২২ সালের ৭ মার্চ ওয়াশিংটনে নিযুক্ত তৎকালীন পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান এবং মার্কিন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর মধ্যকার একটি বৈঠকের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জো বাইডেন প্রশাসন সেই বৈঠকে ইসলামাবাদকে স্পষ্টভাবে বার্তা দিয়েছিল যে, ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরানো গেলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নয়ন হবে এবং অতীতের ‘ভুল’ ক্ষমা করা হবে।

ডোনাল্ড লু সেই বৈঠকে বলেছিলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযানের সময় ইমরান খানের নিরপেক্ষ অবস্থান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার বৈঠক ওয়াশিংটনকে ক্ষুব্ধ করেছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি ইমরান খান ক্ষমতায় থাকেন, তবে পাকিস্তান আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। কিন্তু যদি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়, তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সবকিছু ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন যে, তার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এবং আফগানিস্তানে মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় ওয়াশিংটন তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করেছে। ফাঁস হওয়া এই নথি তার সেই দাবিকেই জোরালো সমর্থন দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

২০২২ সালের ৯ এপ্রিল এক নাটকীয় অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারান ইমরান খান। এরপর থেকে তিনি একাধিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে কারাবন্দি আছেন। অন্যদিকে, ইমরান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পাকিস্তানের নতুন সরকার আইএমএফের ঋণ সহায়তার পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে গোলাবারুদ সরবরাহ শুরু করে বলে ‘ড্রপ সাইট’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অবশ্য বরাবরের মতোই এই ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে ফাঁস হওয়া নতুন এই ‘সাইফার’ নথি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই