যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (১৯ মে) ইরানে এক বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা ছিল তার। তবে পারস্য উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর বিশেষ অনুরোধ এবং একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির আশায় তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। তিনি বলেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা তাকে এই পরিকল্পিত অভিযান স্থগিত করার জন্য অনুরোধ করেছেন। মূলত যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি বহুল প্রতীক্ষিত চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তিনি আপাতত হামলার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছেন।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে, ইরান আগে থেকেই হুমকি দিয়ে রেখেছিল—যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল হামলা চালালে তারা পার্শ্ববর্তী আরব দেশগুলোর ওপর পাল্টা আঘাত হানবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি একটি গ্রহণযোগ্য ও ফলপ্রসূ চুক্তি না হয়, তবে যেকোনো মুহূর্তে ইরানের ওপর পূর্ণাঙ্গ ও বড় ধরনের হামলা চালানোর জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, "চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে খুবই ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। আমাদের আরব মিত্ররা জানিয়েছেন, চুক্তিটি এখন খুব কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে। এর মাধ্যমে ইরান তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আকাঙ্ক্ষা বর্জন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোনো প্রকার ধ্বংসাত্মক বোমা হামলা ছাড়াই যদি কূটনৈতিক সমাধান সম্ভব হয়, তবে আমি অত্যন্ত খুশি হব।"
অন্যদিকে, তেহরান জানিয়েছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া কিছু প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরোক্ষভাবে বার্তা আদান-প্রদান চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। বর্তমানে ইরান রণকৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং নিজেদের উদ্বেগের বিষয়গুলো আলোচনায় স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments