হজকে কেন্দ্র করে পবিত্র মক্কা নগরী পরিণত হচ্ছে বিশ্বের নানা ভাষার মিলনমেলায়। আরবির পাশাপাশি বাংলা, উর্দু, ইন্দোনেশিয়ান, তুর্কি, ফার্সি ইংরেজি, ফরাসি ও সোয়াহিলিসহ বিভিন্ন ভাষার শব্দে মুখর হয়ে উঠছে পবিত্র নগরী। ভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাষার মানুষ একসঙ্গে তাওয়াফ, দোয়া ও ধর্মীয় আচার পালনে অংশ নেন।
সোমবার (১৮ মে) সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভাষাগত বাধা দূর করতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। গ্র্যান্ড মসজিদ ও নবীর মসজিদের তত্ত্বাবধানের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ গ্র্যান্ড মসজিদের খুতবা ১০টি ভাষায় একযোগে অনুবাদের ব্যবস্থা করেছে। ‘মানারাত আল-হারামাইন’ প্ল্যাটফর্ম ও এফএম রেডিও'র মাধ্যমে এসব অনুবাদ শুনতে পারবেন হাজিরা।
এছাড়া ৫০টির বেশি ভাষায় দিকনির্দেশনা ও ধর্মীয় তথ্য দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ওয়্যারলেস হেডফোন ও ডিজিটাল গাইড কার্ড। পবিত্র মসজিদুল হারামের ভেতরে রয়েছে বহুভাষিক বই, নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড, ইলেকট্রনিক স্ক্রিন এবং বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত পবিত্র কোরআনের কপি।
পবিত্র হজের জন্য বিভিন্ন স্থানে নিয়োজিত বহুভাষিক স্বেচ্ছাসেবক ও ফিল্ড টিম হাজিদের স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় নির্দেশনায় সহায়তা করছেন। এর ফলে হজযাত্রীরা আরও সহজ ও নিরাপদভাবে ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করতে পারছেন।
সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব উদ্যোগ শুধু ভাষাগত সহায়তাই নয়, বরং ইসলামের বার্তা ও হজসেবাকে আরও সহজভাবে বিশ্বের মুসলমানদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।
এই মিলনমেলায় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ আইটি হেল্পডেস্কের সর্বশেষ বুলেটিন (১৯ মে) অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মোট ১৬৯টি ফ্লাইটে ৬৫ হাজার ৫৯২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৪৪৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬১ হাজার ১৪৮ জন যাত্রী রয়েছেন।
তবে আনন্দের এই আবহে বিষাদের সুর হয়ে এসেছে ১৮ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু। মৃতদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ এবং ৫ জন নারী। এর মধ্যে ১৩ জন মক্কায় এবং ৫ জন মদিনায় ইন্তেকাল করেছেন। সর্বশেষ গত ১৭ মে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সাজেদা বেগম (৫৬) নামে এক নারী হজযাত্রী মারা গেছেন।




Comments