Image description

১৯৯৬ সালে কিউবান-আমেরিকান সংগঠন ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’-এর দুটি বেসামরিক বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। প্রায় তিন দশক পর ঐতিহাসিক এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মিয়ামিতে কিউবার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই অভিযোগপত্র ঘোষণা করা হয়। ঘটনার সময় রাউল কাস্ত্রো কিউবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন। আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় কিউবার দুটি মিগ যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়ে ওই বিমান দুটি ভূপাতিত করেছিল। এতে চারজন নিহত হন, যাঁদের মধ্যে তিনজন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্র, বিমান ধ্বংস এবং সরাসরি চারটি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে নেই, তবে এই মামলাটি কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ১৯৯২ সালে পানামার সাবেক নেতা ম্যানুয়েল নরিয়েগার সাজার পর এই মামলাটি নতুন গতি পায়। তদন্তে দেখা যায়, রাউল কাস্ত্রো ও কিউবার তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তারা কলম্বিয়ার মাদক চক্রের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়েছিলেন। বিনিময়ে তাঁদের মাদক চালানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হতো। মিয়ামির সাবেক মার্কিন অ্যাটর্নি গাই লুইস এই মামলার ভিত্তি হিসেবে একটি শক্তিশালী স্মারক নথি তৈরি করেছিলেন, যা সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের নজরে আসে।

এফবিআই-এর তদন্তে ‘লা রেড আভিসপা’ বা ‘ওয়াস্প নেটওয়ার্ক’ নামে একটি গুপ্তচর চক্রের নাম উঠে আসে। এই চক্রটি মিয়ামির কাস্ত্রোবিরোধী কিউবান সম্প্রদায়ের ভেতর অনুপ্রবেশ করেছিল। ১৯৯৬ সালের ওই হামলার আগে এই গুপ্তচররা কিউবার সামরিক বাহিনীকে বিমানের ফ্লাইটের গোপনীয় তথ্য সরবরাহ করেছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কৌঁসুলি ডেভিড বাকনার বলেন, “এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যার উদ্দেশ্য ছিল কিউবার ভিন্নমতাবলম্বীদের মনে ভয় তৈরি করা।” ২০১৪ সালে ওবামা প্রশাসনের সময় বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে কিছু কিউবান গুপ্তচরকে মুক্তি দেওয়া হলেও, ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর এই মামলাটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেয়।

নিহতদের পরিবারের জন্য বিচার নিশ্চিত করাই এই মামলার মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রসিকিউটররা। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থায় একটি নজির হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মানবকণ্ঠ/আরআই