যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জ্বালানি ও বিমান খাতে ইরানের বড় ধরনের সাইবার হামলা
আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই সাইবার যুদ্ধকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা ও সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের মতে, ইরানের রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট হ্যাকাররা অত্যন্ত সুকৌশলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিমান পরিবহন, তেল এবং গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের গুপ্তচরবৃত্তি শুরু করেছে। একে একটি বড় ধরনের কৌশলগত হুমকি হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘পালো আল্টো নেটওয়ার্কস’-এর গবেষণা শাখা ‘ইউনিট ৪২’ জানিয়েছে, ইরানি হ্যাকাররা মূলত ভুয়া চাকরির নিয়োগদাতা বা রিক্রুটার সেজে বিমান চলাচল খাতের দক্ষ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের ফাঁদে ফেলছে। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে নিখুঁত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি তৈরি করে এবং অনলাইন ইন্টারভিউয়ের আড়ালে বিশেষ ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে দেয়। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো আমেরিকা, ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্পর্শকাতর করপোরেট নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
বিশ্লেষকদের মতে, বিমান বা জ্বালানি খাতের নেটওয়ার্কে প্রবেশ করতে পারলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটের যাত্রী তালিকা ট্র্যাক করা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অভ্যন্তরীণ কৌশলগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা একে একটি বিপজ্জনক ‘অপ্রতিসম হুমকি’ (Asymmetric Threat) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যদিও গবেষকরা জানিয়েছেন যে, হ্যাকাররা এখনো মার্কিন বা ইসরায়েলি মূল নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভাঙতে পারেনি, তবে কিছু আন্তর্জাতিক লক্ষ্যবস্তুতে তারা সফলভাবে অনুপ্রবেশ করেছে।
এর আগে গত মার্চে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছিল যে, তারা বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানের সাইবার যুদ্ধের সদর দপ্তর ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে বর্তমান হামলার তীব্রতা প্রমাণ করে যে, ইরানের হ্যাকিং দলগুলোর কার্যক্রম বিন্দুমাত্র স্তিমিত হয়নি। বরং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের মুখে তারা আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মার্কিন গ্যাস স্টেশনগুলোর ডিজিটাল পরিকাঠামোতে সাম্প্রতিক রহস্যময় অনুপ্রবেশের ঘটনা তেহরানের সক্ষমতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন




Comments