ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আগাম জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে। আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি আমেরিকান ডিস্কো গ্রুপ ‘ভিলেজ পিপল’ এবং ভারতীয় সঙ্গীতসম্রাট এ আর রহমানের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আগামী ২৮ মে ৫৫ বছর পূর্ণ করতে চলেছেন মার্কো রুবিও। রোববার সন্ধ্যায় ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর তাকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানালে বিশাল পর্দায় ভেসে ওঠে ‘শুভ জন্মদিন মার্কো রুবিও’। এসময় চার স্তরের একটি বিশাল কেক আনা হয় এবং মার্কো রুবিও মোমবাতি নিভিয়ে উদযাপন শুরু করেন। বিখ্যাত ব্যান্ড ‘ভিলেজ পিপল’ তার জন্য ‘হ্যাপি বার্থডে’ গানটি গেয়ে শোনানোর পর তাদের জনপ্রিয় হিট গান ‘YMCA’ পরিবেশন করে, যা গোটা ভারত মণ্ডপমকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দূর থেকে ফোনে যুক্ত হয়ে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর তার ফোনটি মাইক্রোফোনের কাছে ধরলে ট্রাম্প বলেন, “ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ পর্যায়ে রয়েছে। ভারত আমার ওপর এবং আমাদের দেশের ওপর শতভাগ আস্থা রাখতে পারে।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একজন ‘মহান বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প আরও বলেন, “ভারতের যখনই সাহায্যের প্রয়োজন হবে, তারা জানে কোথায় ফোন করতে হবে—তারা ঠিক এখানেই ফোন করবে।”
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অস্কারজয়ী সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমানের পরিবেশনা। তিনি ‘দিল সে’, ‘মা তুঝে সালাম’ এবং ‘তেরে বিনা’-র মতো তাঁর কালজয়ী গানগুলো গেয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
চার দিনের সফরে ভারতে আসা মার্কো রুবিও ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপরিহার্য কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তিনি ইতিমধ্যে এস জয়শঙ্করের সাথে বৈঠক করেছেন।
এছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও জানিয়েছেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও সোমবার আগ্রা ও জয়পুর সফর করবেন। এরপর মঙ্গলবার সকালে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘কোয়াড’ (Quad) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই সফরের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও আমেরিকার কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।




Comments