Image description

ইউক্রেনের কিয়েভে রাশিয়ার হামলার পর একটি আবাসিক ভবনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা: ছবি-এপি

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের প্রতিরক্ষা শিল্প স্থাপনাগুলোতে ‘ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত’ হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে কিয়েভে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীদের দ্রুত শহর ছেড়ে যাওয়ার জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছে মস্কো।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত সপ্তাহে অধিকৃত লুহানস্ক অঞ্চলের স্টারোবিলস্কের একটি ছাত্রাবাসে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ১৮ জন নিহত হওয়ার জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। 

রাশিয়ার দাবি, কিয়েভের যেসব স্থানে ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জামের নকশা, উৎপাদন এবং ব্যবহারের প্রোগ্রামিং করা হয়, সেই নির্দিষ্ট জায়গাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। 

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘শেষ সীমা’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছে, কিয়েভের বাসিন্দাদেরও উচিত সামরিক ও প্রশাসনিক অবকাঠামো থেকে দূরে থাকা।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে টেলিফোনেও রাশিয়ার এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। 

ল্যাভরভ ল্যাভরভ মার্কিন দূতাবাস থেকে দ্রুত তাদের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, "রুশ ভূখণ্ডে বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনার ওপর কিয়েভ সরকারের অব্যাহত সন্ত্রাসী হামলার জবাব দিতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।"

রাশিয়া এই পরিস্থিতিকে ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি কিয়েভের চরম অবজ্ঞা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

এদিকে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী স্টারোবিলস্কের ছাত্রাবাসে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তারা কেবল একটি এলিট ড্রোন কমান্ড ইউনিটকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। রাশিয়ার এই হুমকির মুখে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা মিত্র দেশগুলোকে ‘রাশিয়ান ব্ল্যাকমেইলের’ কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, সোমবার ৭০ জনেরও বেশি বিদেশি কূটনীতিক কিয়েভের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে সংহতি প্রকাশ করেছেন। ফরাসি রাষ্ট্রদূত গেল ভেসিয়ের রয়টার্সকে বলেন, "মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে, এটি রাশিয়ার হুমকির বিরুদ্ধে এক ধরনের সহনশীলতা প্রদর্শন।"

গত কয়েক দিনে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। গত রবিবার রাশিয়া নিশ্চিত করেছে যে তারা আবারও ‘ওরেশনিক’ হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। কিয়েভ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে রাতভর রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। 
অন্যদিকে, পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ ও দোনেৎস্ক অঞ্চলেও বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি জানিয়েছেন, রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে দিতে তাদের তেল ও উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো পুরোপুরি ন্যায়সঙ্গত। 

সব মিলিয়ে, রাশিয়ার নতুন এই হুমকির পর কিয়েভে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।