ইরানে মার্কিন সামরিক হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। আগের সেশনে ব্রেন্টের দাম ৭ শতাংশ কমলেও মঙ্গলবার (২৬ মে) নতুন করে উত্তজনা সৃষ্টি হওয়ায় এর দাম প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৪০ ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৯৭ দশমিক ৫৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ২৫ ডলারে। যদিও এটি শুক্রবারের তুলনায় কিছুটা কম, তবে হামলার খবরে বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, নিজেদের সেনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও মাইন পেতে রাখা কয়েকটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের গণমাধ্যম বন্দর আব্বাস ও উপকূলীয় এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ বা পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান এই পথে জাহাজ চলাচল সীমিত করায় তেলের দাম ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে এরই মধ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলার খবর পাওয়া গেছে। একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির আওতায় ইরান আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন সরিয়ে নিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, সমঝোতা চূড়ান্ত হলে দীর্ঘদিন আটকে থাকা তেল ও গ্যাসুবাহী জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল শুরু করবে। ইতিমধ্যে পাকিস্তান, চীন ও ভারতের উদ্দেশ্যে কয়েকটি এলএনজি ও তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার খবর পাওয়া গেছে, যা বাজারে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিলেও পূর্ণাঙ্গ চুক্তির আগে অনিশ্চয়তা কাটছে না।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments