Image description

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ বা আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদানের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব ও পাকিস্তান। ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস বা দেশটিকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে এই দুই প্রভাবশালী মুসলিম রাষ্ট্র।

সোমবার সৌদি আরবের একটি সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে আল আরাবিয়া টিভি ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, ফিলিস্তিন ইস্যুতে রিয়াদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ‘সুনির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় পথ’ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হবে না।

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা ও মধ্যস্থতায় অংশ নেওয়া দেশগুলোকে—বিশেষ করে কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান, মিশর, জর্ডান ও তুরস্ককে অবিলম্বে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে এসব দেশের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকা উচিত নয়।

ট্রাম্পের এমন চাপের মুখে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ মঙ্গলবার গণমাধ্যম সামা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পাকিস্তান এমন কোনো চুক্তিতে যোগ দেবে না যা দেশটির মৌলিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি ইসরায়েলের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘যাদের কথার ওপর একটি দিনের জন্যও আস্থা রাখা যায় না, তাদের সঙ্গে আপনারা কীভাবে চলতে পারবেন?’ খাজা আসিফ আরও মনে করিয়ে দেন যে, পাকিস্তানই একমাত্র দেশ যাদের পাসপোর্টে স্পষ্টভাবে লেখা থাকে যে এটি ইসরায়েলের জন্য কার্যকর নয়।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানের সঙ্গে ইসরায়েলের এই ‘আব্রাহাম চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর আগে সৌদি আরবের সঙ্গেও এই চুক্তির আলোচনা চলছিল, যা বর্তমানে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফিলিস্তিন ইস্যুকে উপেক্ষা করে সৌদি ও পাকিস্তানের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর স্বীকৃতি আদায় করা ওয়াশিংটনের জন্য বর্তমানে একটি বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ।

মানবকণ্ঠ/আরআই