দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ঐতিহাসিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘বোফোর্ট দুর্গ’ (Beaufort Castle) দখল করে নিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। গত পঁচিশ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি লেবাননের ভূখণ্ডের ভেতরে ইসরায়েলি বাহিনীর সবচেয়ে গভীরতম অনুপ্রবেশ। মধ্যযুগীয় এই ক্রুসেডার দুর্গে পতাকা উত্তোলন করে নিজেদের দম্ভ প্রকাশ করেছে তেল আবিব।
নাবাতিয়েহ শহরের কাছে একটি পর্বতচূড়ায় অবস্থিত এই দুর্গটি সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েকদিন ধরে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে তীব্র লড়াই এবং বিমান হামলার পর ইসরায়েলি সেনারা দুর্গটি নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা এই এলাকাটিকে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংস এবং ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হুমকি দূর করার জন্য ব্যবহার করছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি মুখপাত্র আভিচাই আদরাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ দুর্গের সামনে ইসরায়েলি সৈন্যদের টহল দেওয়ার ছবি পোস্ট করেছেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই ঘটনাকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে তাঁর টেলিগ্রাম চ্যানেলে লিখেছেন, “বীরত্বপূর্ণ বোফোর্ট যুদ্ধের চুয়াল্লিশ বছর পর এবং ১৯৮২ সালের যুদ্ধে নিহত সৈন্যদের স্মরণে আমাদের সেনারা পুনরায় সেখানে পতাকা উত্তোলন করেছে।”
উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে প্রথম লেবানন যুদ্ধের সময় ইসরায়েল এটি দখল করেছিল এবং ২০০০ সাল পর্যন্ত তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল।
মার্চের শুরুতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে নামমাত্র যুদ্ধবিরতি থাকলেও তা বাস্তবে কার্যকর নেই। ইসরায়েলি সেনারা লিতানি নদী পার হয়ে বর্তমানে নাবাতিয়েহ শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহও পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ‘ফাইবার অপটিক ড্রোন’ ব্যবহার করে ইসরায়েলি সৈন্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
রোববার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, হিজবুল্লাহর একটি বিস্ফোরক ড্রোনের হামলায় তাদের একজন সৈন্য নিহত হয়েছে। ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর এ পর্যন্ত ২৫ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।
এদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের জহরানি নদীর দক্ষিণে বসবাসকারী বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার কথা জানিয়ে বাসিন্দাদের নদীর উত্তরে চলে যেতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে মারজায়ুন এলাকার আরনুন গ্রামে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ভয়াবহ ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এবং মার্কিন প্রভাবে কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা চললেও রণক্ষেত্রে পরিস্থিতি ক্রমে আরও জটিল হয়ে উঠছে। বোফোর্ট দুর্গ দখলের মাধ্যমে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও পোক্ত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।




Comments