Image description

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগে জানিয়েছেন যে, রাশিয়া ইউক্রেনীয় শিশুদের অপহরণ করে তাদের নিজের দেশের মানুষের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করার জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। 

সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই অভিযোগ করেন।

জেলেনস্কি বলেন, তাঁর সরকারের কাছে এমন প্রমাণ রয়েছে যে, রাশিয়া অপহৃত শিশুদের 'রুশীকরণ' বা মতাদর্শ পরিবর্তনের পর তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে। 

তিনি বলেন, "আমাদের কাছে এর প্রমাণ আছে। তারা এই শিশুদের নিজের মাতৃভূমি এবং স্বদেশীদের ঘৃণা করতে শেখাচ্ছে। আপনারা কি কল্পনা করতে পারেন, এই ইউক্রেনীয় কিশোররা বড় হয়ে যখন যুদ্ধক্ষেত্রে আসবে, তারা নিজেদের ভাই-বোনদেরই হত্যা করবে!"

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইতিমধ্যে এই কর্মকাণ্ডকে ‘জনসংখ্যার বেআইনি নির্বাসন’ বা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ২০২৩ সালে এই অভিযোগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। যদিও ক্রেমলিন একে যুদ্ধ-অনাথদের যত্নে নেওয়া ‘মানবিক প্রচেষ্টা’ বলে দাবি করে আসছে।

ইয়েল স্কুল অফ পাবলিক হেলথের এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস কোম্পানি ‘গ্যাজপ্রম’ এবং ‘রসনেফট’ অন্তত ২,০০০ ইউক্রেনীয় শিশুর ‘পুনঃশিক্ষা’ বা মতাদর্শ পরিবর্তনের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।
সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রাশিয়ার তেলের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সমালোচনা করেন। 

তিনি বলেন, এর ফলে পাওয়া অতিরিক্ত মুনাফা রাশিয়া তার সামরিক শক্তি ও এই ধরণের অপহরণ কর্মসূচিতে ব্যয় করছে। তিনি মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানান যাতে শিশুদের সুরক্ষার কথা ভেবে আবারও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া অপহৃত শিশুদের ‘যোদ্ধা’ বা অ-বেসামরিক হিসেবে গণ্য করছে এবং অনেক সময় যুদ্ধবন্দী ইউক্রেনীয় সৈন্যদের বিনিময়ে শিশুদের ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে। তিনি এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, "আমরা শিশুদের বিনিময় করতে পারি না। এটি কেবল আইনের পরিপন্থীই নয়, চরম অমানবিকও। বেসামরিক শিশুদের কেন যোদ্ধাদের সাথে বিনিময় করা হবে?"

ইউক্রেন সরকারের নথিপত্র অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ২০,০০০ শিশুকে অপহরণ করা হয়েছে। তবে জেলেনস্কির আশঙ্কা, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। তিনি এই শিশুদের খুঁজে বের করতে এবং তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কামনা করেছেন।