Image description

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর প্রথম বড় কর্মসূচি হিসেবে কলকাতায় আমরণ অনশন শুরু করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট কারচুপি, তৃণমূল নেতাদের ওপর হামলা এবং পরিকল্পিতভাবে দল ভাঙার চেষ্টার অভিযোগ তুলে সোমবার থেকে কলকাতার ধর্মতলায় এই কর্মসূচি শুরু করেন তিনি।

ইন্ডিয়া টুডে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনশন মঞ্চ থেকে একরোখা মেজাজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, ‘লড়ব, না হলে মরব। বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরানো পর্যন্ত আমি থামব না।’ তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর বিজেপি এখন ভয়ভীতি ও প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তৃণমূলকে দুর্বল করার নীল নকশা সাজিয়েছে। বিশেষ করে দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ শীর্ষ নেতাদের ওপর রাজনৈতিক নিপীড়ন চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

রাজনৈতিকভাবে এই অনশন কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতির হার ছিল রীতিমতো হতাশাজনক। তৃণমূলের টিকে থাকা ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র ৫ জন মমতার এই অনশনে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া সাংসদ উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৩ জন। এই চিত্র দলটির ভেতরে চরম অস্থিরতা ও সম্ভাব্য বিভক্তির জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে।

অনশন মঞ্চে মমতার পাশে থাকা বিধায়কদের মধ্যে ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অশোক দেব ও অসীমা পাত্র। আর সাংসদদের মধ্যে দেখা গেছে দোলা সেন ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মমতার ডাকা কর্মসূচিতে বিধায়কদের এই বিপুল অনুপস্থিতি নির্দেশ করে যে দলটির ওপর নেত্রীর নিয়ন্ত্রণ আলগা হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া কয়েকজন নেতার সঙ্গে বর্তমান বিধায়কদের গোপন বৈঠক এবং বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বাক্ষর জালিয়াতির মতো অভিযোগগুলো তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেস এখন ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। মমতার এই অনশন একদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হলেও, বাস্তবে তা দলের ভেতরের অভ্যন্তরীণ ফাটলকেই জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই