যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নেতারা অত্যন্ত ‘শক্তিশালী’ ও ‘অহংকারী’। এই অহংকারের কারণেই চলমান যুদ্ধ বন্ধে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনো কোনো চুক্তিতে সম্মত হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত দেশটিকে চুক্তিতে আসা ছাড়া আর ‘কোনো বিকল্প নেই’ বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৫ জুন) উইসকনসিনের চিপেওয়া ফলসে এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
ইরানি নেতাদের মনোভাব প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা শক্তিশালী ও অহংকারী। এমন কিছু বিষয় আছে, যা তারা কখনও করবে বলে ভাবেনি। কিন্তু তাদের সামনে এখন আর কোনো পথ খোলা নেই। এসব চুক্তিতে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত গত সপ্তাহে চতুর্থ মাসে গড়িয়েছে। গত এপ্রিল মাসে দুই দেশ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও তা কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। তবে সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির কাছে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার কংগ্রেস সদস্যদের জানান যে, ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলো ছিল সম্পূর্ণ ‘আত্মরক্ষামূলক’ এবং হরমুজ প্রণালির কাছে জাহাজে ইরানি হামলার প্রতিক্রিয়ায় এগুলো চালানো হয়েছে।
সংঘাতের জেরে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে।
সাক্ষাৎকারে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার জন্য সমালোচকদের চাপের মুখে ট্রাম্প বলেন, ‘এসব সংঘাত শেষ হতে বছরের পর বছর লেগে যায়। তারা (ইরান) ৪৭ বছর ধরে লড়াই করছে এবং আমেরিকানদের হত্যা করেছে।’ যুদ্ধের সময়কালকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘আমি খুব দ্রুত এগোচ্ছি। আমি ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাস হয়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯ বছর ধরে চলেছিল। অথচ সবাই এখনই জানতে চায়— কবে জিতবেন?’
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করেছে। তার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরানের মাত্র ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা অবশিষ্ট রয়েছে। ড্রোন কারখানা এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে ট্রাম্পের এই দাবির মধ্যেই চলতি সপ্তাহে পারস্য উপসাগরজুড়ে একাধিক হামলা চালিয়ে ইরান জানান দিয়েছে যে, তারা এখনও পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments