মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের মজুত কমে যাওয়ার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের সেশনে দরপতন হয়ে গত সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নামলেও, বুধবার (১০ জুন) বিশ্ববাজারে তেলের বাজার আবারও চাঙ্গা হয়ে ওঠে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে:
ব্রেন্ট ক্রুড: লন্ডনের বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৮৩ সেন্ট বা ০.৯% বেড়ে ৯২.২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ডব্লিউটিআই ক্রুড: যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ৬৮ সেন্ট বা ০.৮% বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮৮.৯৭ ডলারে পৌঁছেছে।
দাম বাড়ার প্রধান কারণসমূহ
১. ইরান-মার্কিন সামরিক সংঘাত: হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জবাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির পরপরই এই হামলা চালানো হয়, যা দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে পুরোপুরি ভেস্তে দিয়েছে।
২. হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা: বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। বর্তমানে তেহরান এই পথ দিয়ে বেশির ভাগ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ওয়াশিংটনও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।
৩. যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত হ্রাস: আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (API) তথ্য অনুযায়ী, ৫ জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত টানা অষ্টম সপ্তাহের মতো হ্রাস পেয়েছে। এ সপ্তাহে তেলের মজুত ৯১.২ লাখ ব্যারেল এবং পেট্রোলের মজুত ১১.৯ লাখ ব্যারেল কমেছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব: চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া ও ইউরোপে তেল রপ্তানি অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিল। এখন খোদ আমেরিকার বুকেই তেলের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসায় তাদের রপ্তানি ক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ঘাটতি বিশ্ববাজারে তেলের দামকে আরও উসকে দেবে।
মানবকন্ঠ/আরআই




Comments