যে যুক্তিতে খালাস পেলেন নাসির-তামিমা, উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা বাদীপক্ষের
ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তাঁর স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আলোচিত ব্যভিচার ও জালিয়াতির মামলায় আদালত আজ বুধবার তাঁদের খালাস দিয়েছেন। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
এই রায়ের পর আসামিপক্ষ স্বস্তি প্রকাশ করলেও তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছে বাদীপক্ষ। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন বাদী রাকিব হাসানের আইনজীবী।
আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আদালতের পর্যবেক্ষণ ও খালাস পাওয়ার মূল আইনি যুক্তিগুলো গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন:
বৈধ তালাক: আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তামিমা ও তাঁর প্রাক্তন স্বামী রাকিবের মধ্যকার তালাক বা ডিভোর্স আইনগতভাবেই কার্যকর হয়েছিল।
ঘটনাস্থল ও ঘটনার গরমিল: একটি ফৌজদারি মামলার মূল ভিত্তি হলো—ঘটনাস্থল, ঘটনার সময় ও ঘটনার ধরন। আইনজীবী জানান, বাদীপক্ষ মামলায় যে ঘটনাস্থলের (অপরাধ সংঘটিত হওয়ার স্থান) কথা উল্লেখ করেছে, সেখানে নাসির কিংবা তামিমা কোনোদিনই যাননি। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, যেখানে আসামিরা যানইনি, সেখানে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার কোনো আইনগত সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, রায়ের পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাদী রাকিব হাসানের আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাঁর মতে, উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও আদালত সঠিক বিচারিক মনস্তত্ত্ব (Judicial Mind) প্রয়োগ করেননি।
তিনি বাদীর পক্ষে নিম্নলিখিত যুক্তিগুলো তুলে ধরেন:
পিবিআই-এর তদন্ত ও জাল নথি: পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (PBI) তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, তামিমা রাকিবকে ডিভোর্স না দিয়েই নাসিরকে বিয়ে করেছেন এবং ২০১৬ সালের তালাকের নথিগুলো সম্পূর্ণ জাল।
সাক্ষীদের বক্তব্য: ডাক বিভাগের একজন ডিজিএম আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছিলেন, তালাকের চালানের ডাক রসিদগুলো ডাক বিভাগের নয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দুজন ইউপি চেয়ারম্যানও আদালতে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তাঁরা কোনো তালাকের নোটিশ পাননি।
তামিমার স্বীকারোক্তি: জেরার সময় তামিমা নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি সিটি করপোরেশন বা চেয়ারম্যানের কাছে কোনো অফিসিয়াল নোটিশ পাঠাননি।
বাদীপক্ষের আইনজীবীর দাবি, জালিয়াতির প্রমাণ থাকার পরও এই খালাসের রায় সমাজে একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। তাই ন্যায়বিচারের আশায় তাঁরা দ্রুতই উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
আদালতের বর্তমান চিত্র: রায় ঘোষণার সময় নাসির ও তামিমা দুজনেই কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। খালাসের আদেশ আসার পরপরই আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় করা গণমাধ্যমকর্মী ও উৎসুক জনতার চোখ এড়িয়ে তাঁরা দ্রুত আদালত এলাকা ত্যাগ করেন।
মানবকন্ঠ/আরআই




Comments