ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে দুটি হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। রোববার (১৪ জুন) সকালে শহরের পশ্চিমাঞ্চলীয় রেক্রেইও দোস বান্দেইরান্তেস এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মাঝআকাশে সংঘর্ষের পর দুটি হেলিকপ্টারই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বৈদ্যুতিক গাড়ির শোরুমের পার্কিং এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। এতে পার্কিংয়ে থাকা প্রায় ২০টি গাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।
দমকল বিভাগ জানায়, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করা হলেও বৈদ্যুতিক গাড়ির লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এসব ব্যাটারি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস আগুন নেভানোর কাজকে আরও কঠিন করে তোলে।
দমকল বিভাগের মুখপাত্র ফাবিও কন্ত্রেইরাস বলেন, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারিতে আগুন লাগলে তা অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা সৃষ্টি করে এবং বিষাক্ত গ্যাস নির্গত করে। ফলে এমন আগুন নিয়ন্ত্রণে সাধারণ যানবাহনের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি পানি প্রয়োজন হয়।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাস্থলটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। হেলিকপ্টার দুটি যদি পার্কিং এলাকায় না পড়ে আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হতো, তাহলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারত।
উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে একটি হেলিকপ্টারকে আগুনে পুড়ে যেতে দেখেন। এতে থাকা পাঁচ আরোহীর সবাই নিহত হন। অপর হেলিকপ্টারটি প্রায় ১০০ মিটার দূরে বিধ্বস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখানে শুধু পাইলট ছিলেন এবং তিনিও ঘটনাস্থলেই মারা যান।
দুর্ঘটনার পর হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ কয়েকশ মিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে পার্কিং এলাকা থেকে ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে উড়তে দেখা যায়।
ঘটনার কারণ জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তদন্তকারীরা দুর্ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, ফ্লাইট তথ্য এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে প্রকৃত কারণ নির্ধারণের চেষ্টা করছেন।
ব্রাজিলে বিমান ও হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা নতুন কোনো ঘটনা নয়। দেশটির বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সেনিপা)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এই দুর্ঘটনার আগেই দেশটিতে ৮৪টি বিমান দুর্ঘটনার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments