Image description

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত একটি চুক্তিতে অনুমোদন দিলেও নিজের ব্যক্তিগত ‘ভিন্ন মত’ থাকার কথা জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি। শুক্রবার (১৯ জুন) সৌদি গ্যাজেটের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিতে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। চুক্তির বিষয়ে এটিই খামেনির প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া।

খামেনি জানান, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছ থেকে ইরানি জাতির অধিকার রক্ষার পূর্ণ নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই তিনি চুক্তিটি এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “মূলনীতিগতভাবে আমার ভিন্ন মত ছিল, তবে ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি পাওয়ায় আমি অনুমতি দিয়েছি।”

তিনি আরও দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত কোনো দাবি তুললে তা গ্রহণ করা হবে না—এমন আশ্বাস পাওয়ার পরই তিনি এটি অনুমোদন করেন। খামেনির মতে, যুক্তরাষ্ট্র হতাশ হয়ে বিভিন্ন চাপের মাধ্যমে এই চুক্তি আদায় করেছে। ভবিষ্যতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি, তবে তা কখনোই ইরানের অবস্থান থেকে বিচ্যুত হওয়া নয়।

চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া। এছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল অর্থনৈতিক তহবিল গঠনের কথা রয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র এতে সরাসরি কোনো অর্থায়ন করবে না বলে জানা গেছে।

চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রয়োজনে পারস্পরিক সম্মতিতে বাড়ানো হতে পারে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হওয়া এই চুক্তিটি অনলাইনে স্বাক্ষরিত হওয়ায় সুইজারল্যান্ডে পূর্বনির্ধারিত আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। তবে দুই দেশের প্রতিনিধিরা পরবর্তীতে সুইজারল্যান্ডে বৈঠকে বসতে পারেন বলে জানা গেছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই