Image description

যুক্তরাজ্যে এক দশকেরও কম সময়ে ছয়জন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। সদ্য কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে, যেখানে অনেকেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীত্বকে ইংল্যান্ড ফুটবল দলের কোচিং চেয়ারের সঙ্গে তুলনা করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীদের ওপর যেমন দ্রুত সাফল্যের চাপ থাকে, তেমনি ব্যর্থতার দায়ও খুব দ্রুত পদত্যাগে রূপ নেয়। দলীয় অভ্যন্তরীণ চাপ, অর্থনৈতিক সংকট, নীতিগত ব্যর্থতা এবং গণমাধ্যমের সমালোচনা—সব মিলিয়ে একজন প্রধানমন্ত্রীর টিকে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

এক দশকে যাদের পদত্যাগ

২০১৬ সালে ব্রেক্সিট গণভোটে পরাজয়ের পর ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করেন। এরপর থেরেসা মে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে সরে দাঁড়ান। বরিস জনসন একাধিক রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি ও দলের আস্থাহীনতার কারণে ২০২২ সালে পদত্যাগ করেন।

এরপর লিজ ট্রস মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অর্থনৈতিক নীতিগত সংকটের কারণে দায়িত্ব ছাড়েন। ঋষি সুনাক নির্বাচনী পরাজয়ের পর পদত্যাগ করেন। সর্বশেষ কিয়ার স্টারমারও রাজনৈতিক চাপ ও দলীয় অস্থিরতার মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

কেন এই অস্থিরতা

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটিশ রাজনীতিতে কয়েকটি বড় চাপ কাজ করছে—

  • অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও উচ্চ ঋণ
  • ব্রেক্সিট-পরবর্তী রাজনৈতিক বিভাজন
  • দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব
  • গণমাধ্যমের তীব্র নজরদারি
  • দ্রুত ফলাফলের রাজনৈতিক প্রত্যাশা

এসব কারণে দীর্ঘমেয়াদে কোনো প্রধানমন্ত্রীর জন্য স্থিতিশীল থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।

ফুটবল কোচের সঙ্গে তুলনা কেন

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইংল্যান্ড ফুটবল দলের কোচদের মতোই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীদের অবস্থান এখন অনেকটা “পারফরম্যান্স-নির্ভর” হয়ে গেছে। বড় টুর্নামেন্টে ব্যর্থ হলে যেমন কোচ পরিবর্তন হয়, তেমনি নির্বাচন বা নীতিগত ব্যর্থতার পর দ্রুত প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনও দেখা যাচ্ছে।

এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল হোয়াইটলির মতে, বর্তমান ব্রিটিশ রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রীর পদ অনেকটাই অনিরাপদ—যেখানে ফলাফলই শেষ কথা।

সামনে কী

বিশ্লেষকদের ধারণা, এই প্রবণতা চলতে থাকলে যুক্তরাজ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তনের হার আরও বাড়তে পারে। এতে নীতিগত ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রমও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে—ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীত্ব কি এখন সত্যিই ফুটবল কোচের চাকরির মতোই অনিশ্চিত একটি পদ?