Image description

বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সঙ্গে, যা ভারতের তুলনায়ও বেশি বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ১৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একই অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৫৫ হাজার ১৯১ দশমিক ২৪ মিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ব্যয় হয়েছে ৭৯ হাজার ৩৫৯ দশমিক ২৪ মিলিয়ন ডলার।

চীনের সঙ্গে সর্বোচ্চ ঘাটতি

তথ্য অনুযায়ী, এককভাবে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সঙ্গে, যার পরিমাণ ১৭ হাজার ৮৬৮ মিলিয়ন ডলার। চীন থেকে বাংলাদেশ ১৮ হাজার ৫৬৩ দশমিক ৪০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৬৯৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত, যার সঙ্গে ঘাটতি ৭ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার। ভারত থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ৯ হাজার ৬২৪ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য, আর রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৭৬৪ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।

ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রাজিল, কাতার, মালয়েশিয়াসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গেও বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে বলে সংসদে জানানো হয়।

রপ্তানি বহুমুখীকরণের উদ্যোগ

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই নির্ভরতা কমাতে চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ, আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হিমায়িত খাদ্য ও প্লাস্টিকসহ আটটি খাতকে বিশেষ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এসব খাতে রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

এলডিসি উত্তরণে নতুন কৌশল

২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর শুল্ক সুবিধা হারানোর সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও ভারতের সঙ্গে জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জন বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে এফটিএ আলোচনার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ চলছে। পাশাপাশি চীন সম্প্রতি তাদের ৯৯ শতাংশ ট্যারিফ লাইনের পণ্যে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা দিয়েছে, যা রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে সরকার আশা করছে।