পারস্য উপসাগরে চলমান সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ নিরসনে পুনরায় আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, দুপক্ষের মধ্যে নতুন করে আলোচনার এই সিদ্ধান্তে কয়েক দিনের পাল্টাপাল্টি হামলার পর অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিটি টিকে থাকার আশা জেগেছে।
মার্কিন ওই কর্মকর্তা জানান, গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক (MOU) অনুযায়ী কারিগরি আলোচনা অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে দুই পক্ষই আক্রমণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারবে। সংবাদ সংস্থা অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার (৩০ জুন) কাতারে এই বিষয়ে পরবর্তী ধাপের কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হবে।
গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) হরমুজ প্রণালীতে একটি মালবাহী জাহাজে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। এর প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যদি ইরান শান্তি চুক্তি না মেনে যুদ্ধ বন্ধ না করে, তবে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।"
ট্রাম্পের এই হুমকির পরপরই রোববার (২৮ জুন) ভোরে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC)। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মুহারাফ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ইরানি ড্রোন আঘাত হেনেছে, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কুয়েতও তাদের আকাশসীমায় দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ভূপাতিত করার দাবি করেছে।
এদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর শান্তি বজায় রাখতে হলে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাত থামাতে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখতে এই ১৪ দফার শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের মধ্যে এক দফা আলোচনা হলেও তার পরেই সংঘাত তীব্রতর হয়।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments