ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত ২১ জুন থেকে শুরু হওয়া এই রেকর্ডভাঙা দাবদাহে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
রোববার (২৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস এই আশঙ্কার কথা জানান। তিনি বলেন, তাপজনিত শারীরিক চাপকে প্রায়ই ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। ইউরোপের ঘরবাড়ি, কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের উচ্চ তাপমাত্রা মোকাবিলার উপযোগী করে নির্মিত নয়। ফলে চরম তাপপ্রবাহের কারণে লাখো মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলোতে তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলছে। পোল্যান্ডের স্লুবিৎসে শহরে সর্বোচ্চ ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানী ওয়ারশতে তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০১৩ সালের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
একই দিনে চেক প্রজাতন্ত্রের ডকসানি শহরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রচণ্ড গরমে রাজধানী প্রাগের বাসিন্দাদের স্বস্তি দিতে দমকল বাহিনীকে রাস্তায় পানি ছিটাতে দেখা গেছে। লিথুয়ানিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্রুসকিনিঙ্কাই শহরে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে জুন মাসের সর্বোচ্চ।
জার্মানিতে গত দুই সপ্তাহ ধরে টানা তাপপ্রবাহ চলায় ফ্রাঙ্কফুর্টে অনুষ্ঠিত ‘আয়রনম্যান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ’ প্রতিযোগিতার পথ সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হয়েছেন আয়োজকরা। বার্লিনে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে পর্যটকদের পানির বোতল ও ছাতা নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে অনেক দেশে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা চরম চাপের মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপে এই ধরনের চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রয়োজন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments