গাজা উপত্যকার বেসামরিক প্রশাসনের দায়িত্ব নতুন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের লক্ষ্যে নিজেদের শাসন কাঠামো বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে বর্তমান গাজা সরকার। একই সঙ্গে সরকারের জরুরি কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল খালেক আল-ফাররা পদত্যাগ করেছেন।
সোমবার (৬ জুলাই) গাজা সরকারের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি)-এর কাছে প্রশাসনিক দায়িত্ব হস্তান্তরের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, নতুন প্রশাসনের কাছে পুরো সরকারি কাঠামো হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ-সংক্রান্ত পরিকল্পনা ফিলিস্তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, গোত্র ও উপজাতির প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য এবং জাতিসংঘের একজন পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতে গঠিত একটি জাতীয় কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযান ও অবরোধে সৃষ্ট মানবিক সংকট মোকাবিলা এবং কায়রোতে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার থেকেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো শূন্যতা সৃষ্টি হবে না। জনসেবা সচল রাখতে কারিগরি ও পেশাদার বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ দায়িত্বে বহাল থাকবেন এবং নতুন প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবেন।
অন্যদিকে, গাজার এই পদক্ষেপকে ‘প্রতারণা’ বলে দাবি করেছে ইসরাইল। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’-এর বরাতে এক ইসরাইলি কর্মকর্তা বলেন, পদত্যাগের ঘোষণার বাস্তব কোনো গুরুত্ব নেই, কারণ বর্তমান প্রশাসনের সদস্যরা এখনও দায়িত্বে রয়েছেন। তার দাবি, যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এনসিএজি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও সক্ষমতা নিশ্চিত হলেই তারা গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণে প্রস্তুত। যদিও সংস্থাটি কায়রো থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, এখনো গাজার অভ্যন্তরে সরাসরি প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেনি।




Comments